The Daily Views

Get The Real-time story

Saturday, 25 June 2022

আকস্মিক বদলিই কি তবে ভালো কাজের পুরস্কার ?

আকস্মিক বদলিই কি তবে ভালো কাজের পুরস্কার ?

নেত্রকোণা জেলার বর্তমান ডিসি কাজি আব্দুর রহমান । অত্যন্ত সৎ, ন্যয় ও কর্মপরায়ণ এই মানুষটি নেত্রকোণায় যোগদানের পর থেকে বদলে যায় জেলার অফিসগুলোর কাজের চিত্র । দায়সারাভাবে চলা বিভিন্ন অফিস সচল হয়ে যায় , ফিরে আসে কাজে গতি । প্রান্তিক পর্যায়ের সেবাগুলো পেতে যেসব সাধারণ মানুষ দিনের পর দিন ভোগান্তি , হেনস্থা আর নানান অনিয়মের শিকার হতো , তারা দেখতে পায় এখন আর মত ভোগান্তি হয় না। নেই কোনো অনিয়ম । তারা জানতে পারে মাননীয় প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার উন্নয়নকাজ সবাই সমানভাবে পাওয়াটা প্রত্যেকের নাগরিক অধিকার ।

সার ও বীজ মনিটরিং , হাওর রক্ষা বাঁধসহ কৃষি ও কৃষকের নানান সমস্যাগুলোতে সর্বোচ্চ গুরুত্ব দেয়ায় জেলা প্রশাসনে ভরসা খুঁজে পায় কৃষিকাজ প্রধান জেলাটির সাধারণ মানুষ । সীমান্তবর্তী জেলা হওয়ায় সীমান্তের নানান পথকে কেন্দ্র অসাধু একটি চক্রের যোগসাজশে দীর্ঘদিন ধরে অবৈধ অনেক ব্যবসা চলতো এই জেলায় । বর্তমান জেলা প্রশাসক কাজি আব্দুর রহমান আসার পর থেকে কড়া সতর্কতা ও শক্ত নীতিগত অবস্থানের কারণে বন্ধ হয়ে যায় এসব অপকর্ম । আশা ফিরে পায় উঠতি বয়সী ছেলে মেয়েদেরকে নিয়ে চিন্তিত থাকা জেলার অভিভাবক সমাজ ।
নেত্রকোণা জেলার সবচেয়ে বড় রাজস্ব উৎস হলো বালু মহাল । যে বালুমহাল থেকে কাজি আব্দুর রহমান এসে প্রায় শতকোটি টাকা রাজস্ব আয় করিয়ে দিয়েছেন সরকারকে । ৬ টি বালুমহালের সর্বশেষ বছরের রাজস্ব সব মিলিয়ে ছিলো প্রায় ৪০ কোটি টাকার মত । কাজি আব্দুর রহমান জেলা প্রশাসক হিসেবে আসার পর ইজারা নীতিমালা শক্তভাবে প্রয়োগ ও কিছু কৌশল প্রণয়ন করায় এবার সরকার রাজস্ব পায় দ্বিগুণেরও বেশি হয়ে শতকোটি টাকা । তাছাড়া এসব বালুমহালকে কেন্দ্র চলা অসংখ্য অনিয়ম ও স্বেচ্ছাচারিতার বিরুদ্ধে তাঁর অবস্থান ছিলো জিরো টলারেন্স নীতিতে । এর বাইরেও শিক্ষা , সাহিত্য , সংস্কৃতি ও ক্রীড়াক্ষেত্রে তার নতুন নতুন উদ্যোগে প্রাণ ফিরে পেয়েছিলো পুরো জেলা ।
তাঁর সততা, বুদ্ধিমত্তা ও সৃজনশীল চিন্তার আরেক অনন্য নজির হলো সারা দেশে ডিজিটাল বাংলাদেশ পুরস্কার প্রাপ্তিতে ৬৪ টি জেলার মধ্যে ৬৩ টি জেলাকে টপকে প্রথম স্থান অর্জন করা। এটিও জেলার ইতিহাসে এই প্রথম। যা দেখে আনন্দিত ও উচ্ছসিত হয়েছিলো পুরো জেলার মানুষ ।
অথচ কোনো সুনির্দিষ্ট অভিযোগ বা কারণ ছাড়াই এমন একজন সৎ ও কর্মপরায়ণ মানুষকে অন্যত্র বদলি করে দেয়া হলো! এ ঘটনায় হতবাক হয়েছে জেলার সাধারণ মানুষ। হতাশ ও মনোক্ষুণ্ণ হয়েছে উপকারভোগী হাজার হাজার মানুষ।
একটি জেলায় এসে একজন কর্মকর্তাকে সবকিছু বোঝে উঠতে অনেক সময় লেগে যায়। কোনো একজন কর্মকর্তা যদি সৎ নিষ্ঠাবান হয় তবে তাকে সেই জেলায় ভালো কাজ করার জন্য পর্যাপ্ত সময় দেয়া প্রয়োজন উচিত। তা না হলে ভালো মানুষ তাঁর ভালো চিন্তা ও কাজের প্রয়োগ ঘটাতে পারে না।
সাধারণ মানুষ ও সচেতন নাগরিকদের প্রত্যাশা তাঁকে যেন জেলা প্রশাসক হিসেবে বহাল রাখা হয় অথবা অন্তত আরো বড় কোন দায়িত্ব দেয়া হয়।

লেখকঃ এস এম রাকিব সিরাজী, সাহিত্য সম্পাদক – ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় ছাত্রলীগ 

Share your comment :